জীবসেবা (পাঠ ৩)

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

611

আমরা কিছু কাজ করি, নিজের মঙ্গলের জন্যে বা নিজের আনন্দের জন্যে। আবার আমরা এমন কিছু কাজ করি যাতে অন্যের মঙ্গল হয়, অন্যের আনন্দ হয়। অন্যের মঙ্গল বা অন্যের আনন্দের জন্য যে কাজ করা হয় তার নাম 'সেবা'।

সেবা নানা ভাবে করা যায়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ল, আমরা তার শুশ্রূষা করলাম। একে বলতে পারি রোগীর সেবা। বাড়িতে অতিথি আসলেন, তার যত্ন করলাম। একে বলা হয় অতিথি সেবা। সেবার একটি অর্থ উপাসনা করা, তাকে বলে ঠাকুর সেবা।
বাড়িতে গুরুজন কেউ এলে মা বলেন 'সেবা দে'। এখানে সেবা মানে প্রণাম করা, শ্রদ্ধা জানানো। কেউ না খেয়ে আছে, তাকে খেতে দেওয়াকেও বলা হয় সেবা। আমরা যে আহার গ্রহণ করি, তাকেও বলা হয় সেবা। জীবের মঙ্গলের জন্য আমরা যে কাজ করি, তার নাম জীব সেবা। সমাজের মঙ্গল হয় এমন কাজকে বলা হয় সমাজ সেবা।

আবার হিন্দু ধর্মতত্ত্বে এ সেবা কথাটি খুবই গভীর অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মের একটি বিশ্বাস এই যে ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি, তার দ্বারা আমাদের ভেতর আত্মারূপে যে ঈশ্বর বাস করেন, তাঁর সেবা করি। জীব সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করা হয়ে যায়। জীবসেবা যেমন ধর্মের দিক থেকে আচরণীয়, তেমনি নৈতিকতার দিক থেকেও পালনীয় গুণ।
আমরা ধর্মীয় উপাখ্যান থেকে জেনেছি, পুরাকালে রন্তিদেব অযাচক ব্রত পালনের সময় আটচল্লিশ দিন অভুক্ত থাকার পর খাদ্য পেয়েছিলেন। কিন্তু নিজে অভুক্ত থেকে ক্ষুধার্তদের সেবা করেছিলেন।
কেবল এ উপাখ্যানই নয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থে জীবসেবার এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।
নতুন শব্দ: শুশ্রূষা, উপাসনা, আচরণীয়, অযাচক ব্রত।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...